সুইসাইড

suicide-kanggal.com

সুইসাইড

“উদ্বাস্তু অনিকেত”

– মে আই হেল্প ইউ ?
– নো থ্যাংকস !
বছর ষোল বয়সী মেয়েটি অনেক্ষণ ধরে ব্রিজের রেলিংএ উঠার চেষ্ঠা করছে। উঠতে পাড়ছে না। হয় তার সাহসে কুলাচ্ছে না, না হলে সে আসলেই রেলিংএ চড়তে জানে না। মেয়েটির ভাব দেখে মনে হচ্ছে রেলিংএ উঠে নদীতে ঝাঁপ দিবে!

সুইসাইড কেস দেখে এগিয়ে গেলাম !

– দেখুন এভাবে রেলিং টপকাতে পারবেন না। আগে মনস্থির করে সাহস সঞ্চয় করুন। না হলে ব্রীজেই উল্টে পড়ে মাথা ফাটাবেন।
– ওয়েল ইউর ওউন মেশিন !
– ওকে ঠিক আছে, তবে আপনি চাইলে ধাক্কা দিয়ে সহযোগিতা করতে পারি।
– না, আমি একাই পারবো।
– ওকে বেস্ট অফ লাক। ও ভাল কথা আপনি কি সাঁতার জানেন ?
– আপনার কি মনে হয় আমি এখানে সাঁতার শিখতে আসছি ?
– না না তা বলছি না, আমি চাই নির্বিঘ্নে সুইসাইড করুন। তবে সাঁতার জানা থাকলে কিন্তু ঝাঁপ দিয়ে ধরা খাবেন।
– কেনো ? ধরা খাব কেনো ?
– সাঁতার জানা মানুষ ডুবে মরতে পারে না।
– আমি সাঁতার জানি না।
– ও… তাহলে তো খুবই ভাল, ঠিক আছে ঝাঁপ দেন। আপনার পর আমিও একটা চেষ্টা নিব।
– আপনিও কী সুইসাইড করতে এসেছেন ?
– জ্বী !
– আপনি কোন দুঃখে সুইসাইড করবেন ?
– গার্লফ্রেন্ড আমাকে খাটো ছেলে বলে রিজেক্ট করে দিয়েছে। খাটো ছেলে হয়ে বেঁচে থাকার চেয়ে আই থিংক সলিল সমাধি বেটার।
– এটা কোন কথা হলো। এমন তুচ্ছ ঘটনার কারণে কেউ সুইসাইড করে ?
– এটা মোটেও তুচ্ছ ঘটনা না। একটা পাঁচফুট ছ’ইঞ্চি লম্বা ছেলেকে একটা পিগমি খাটো বলে অবজ্ঞা করবে আর আমি তা মেনে নিব ? কোনো মতেই না !
– আরে আপনি তো যতেষ্ট লম্বা আছেন, কেউ খাটো বললে সুইসাইড করতে হবে কেনো ?
– জ্বী করতে হবে , আমার দুঃখটা আপনি বুঝবেন না। যদি কিছু মনে না করেন আপনার ওড়নাটা কি একটু দেয়া যাবে ?
– কেনো? ওড়না দেব কেন ?
– আমি তো সাঁতার জানি তাই একটু সমস্যা। ওড়না দিয়ে গলায় ভারি কিছু একটা বেঁধে নিলে সুবিধা হয়। নিশ্চিন্ত থাকা যায় আরকি। সুইসাইড কনফার্ম করার জন্য গলায় কিছু বেঁধে নেয়া জরুরী।
– কিন্তু এই সামান্য বিষয়ে সুইসাইড করবেন ?
– এটা সামান্য বিষয় না। আচ্ছা আপনি কেন সুইসাইড করতে এসেছেন ?
– ফেল করেছি। ইন্টার পরীক্ষায় দুই বার ফেল করেছি।
– আপনার তো সুইসাইড করা ফরজ। যে সব গাঁধার বাচ্চারা ইন্টারে দুইবার ধরা খায় সব গুলোর সুইসাইড করা উচিৎ। যেগুলা করতে চাইবেনা সেগুলারে জোর করে বুড়িগঙ্গা নদীতে ফেলে দেয়া উচিৎ।
মর হারামজাদারা বুড়িগঙ্গার পঁচা পানি খেয়ে মর।
তবে নদীতে ফেলার আগে কনফার্ম হতে হবে বদগুলা সাঁতার জানে কিনা। সাঁতার জানা থাকলে অসুবিধা , ধরেন নদীতে ফেললাম আর সাঁতরিয়ে ঐ পাড়ে উঠে চলে গেলো। এটা হতে দেয়া যাবে না। যে গুলা সাঁতার জানবে সে গুলারে হাত পা বেঁধে ফেলতে হবে , না কি বলেন ?
– আপনি কী আমার সাথে মজা করছেন?
– মজার কী দেখলেন ? সিরিয়াসলি বলছি, জীবনে যদি ইন্টারই পাশ না করতে পারছ , এই জীবন দিয়ে তুই কী করবি ?
– মানে !!!
– মানে আপনি চিন্তা করবেন না ! আপনার সুইসাইডের যাবতীয় দায়-দায়িত্ব আমার। তবে এই এরিয়ায় সুইসাইড করলে একটু সমস্যা। কারণ বুড়িগঙ্গায় সুইসাইড করলে পোস্টমর্টেম হবে ডিএমসি মর্গে। আর ডিএমসি মর্গে আছে সাক্ষাত যম নরেশ ডোম। নরেশ হারামজাদা বদের বদ। অল্প বয়সী মেয়ে পাইলে প্রথমে স্তন কাটে পরে নির্দয় ভাবে যৌনাঙ্গটা কেটে ফেলে। বুকের ভিতর চাকু ঢুকিয়ে পেট পর্যন্ত কেটে নাড়িভুঁড়ি বের করে ফেলে। ভোতা করাত দিয়ে মাথার খুলি কেটে মস্তকটা বের করে ফেলে !
সুন্দরী মেয়ে হলে কাটার আগে নাকি রেফও করে।
আপনি তো মাশাল্লা সুন্দর, তাই এই এলাকায় সুইসাইড করা ঠিক হবে না। চলুন অন্য কোথাও যাই।
– প্লীজ আমাকে একটু ধরুন , আমার মাথা ঘুরছে।
– তাহলে এখান থেকে ফেলে দেই ! নাকি ?
– না না, প্লীজ আমাকে একটু বাসায় পৌঁছে দিন ?
আমার খুব খারাপ লাগছে !
এবং কান্না ……………..

আমি মেয়েটাকে একটা রিক্সা ডেকে দিলাম। মেয়েটার বাসা শান্তিনগর। এখান থেকে যেতে যেতে সে স্বাভাবিক হয়ে যাবে।
আমি চাই মেয়েটি বাসায় গিয়ে বলুক “ফেল করেছি বেশ করেছি এখন বিয়ে দিয়ে দাও!”

বিয়ের পর টুনির বাপের সাথে দুটি হাড়ি একটি কড়াইয়ের মিষ্টি সংসার করবে। সংসারে সুখি হওয়ার জন্য ইন্টার পাশ সার্টিফিকেট আবশ্যক না!

Suhanur Rahman
Hi there, I'm Suhanur Rahman (Suhan) . I'm a Regular Content writer in kanggal.com. I'm Experts on advanced computer skills, there is the concept of Web Development (HTML, CSS, PHP-BASIC, JS-BASIC), Android App Development (Java Programming), and Microsoft Office. And I have completed two Certified Courses on Web Development and Android App Development from Bangladesh ICT Division. Best Regards -Suhan