সমলতা – বিপ্লব বর্মন

সমলতা

– বিপ্লব বর্মন

(১)
আজ আমি বেশ বড় হইয়াছি। বয়স পঁচিশ হইয়াছে। সকল কিছু বুঝিবার ক্ষমতা হইয়াছে আমার। দেখিয়া মনে না হইলেও বিএ ডিগ্রি পাস করিয়াছি।

আমার মাতা অকসরে বলিয়া থাকেন আমি নাকি স্বয়ং বিষ্ণুর অবদান। বিষ্ণুর সহিত আমার গভীর যোগসূত্র রইয়াছে। ইহা প্রকৃতই হউক আর অপ্রকৃতই হউক, আমরা বাঙাল জাত ধর্ম-দরদী মানুষ, নিতান্তই ধর্মে বিশ্বাসী। শ্রাবণের শেষে বর্ষণমূখর বাদলদিনে সূতিকাগৃহে আমাকে প্রসব করিয়াছিলেন আমার মাতা। ব্রাহ্মণের গায়ে পৈতা পেঁচানোর মত গলা থেকে নিতম্ব পর্যন্ত আড়াআড়িভাবে নাড়ি পেঁচাইয়া জন্ম হইয়াছিল আমার। সেইকালে আমার রাশি বৃষ বলিয়া গণ্য হইয়াছিল; যাহা আজও চলিতেছে, মৃত্যু পর্যন্তও চলিতে থাকিবে।

বাহিরে মেঘের বর্ষণ চলিতেছে, থামিয়া থামিয়া বিজলী চমকাইতেছে। পবনের বেগ বেশ কঠোর হইয়াছে, বৃক্ষের চারাগুলো মাটিতে নুইয়ে পড়িয়াছে। এইরূপ বাদল দিনে কার নাহি পুরনো ইতিকথা মনে পড়িয়া থাকে। একখানা ছোটো ইতিহাস মনে পড়িয়াছে, ইহাকে ছোটো করিয়াই লিখিব। তবে ছোটো করিয়া দেখিবার উপায় নাই। যাঁহারা ইহার মর্ম বুঝিবেন তাঁহারাই ইহার রসদ পাইবেন।

ইহা এক টিয়া পাখি পুষিবার ন্যায়। বুলি লইবার আগেই গগণের পাখি গগণেই ফিরিয়া গেল, খাঁচায় আটকাইবার বিন্দুমাত্র চেষ্টামাত্র করিলাম না।

ছেলেবেলায় সকল খেলার সাথীরা আমাকে লইয়া রঙ-তামাশা করিত প্রায়শ, তাহাদের নিকট হইতে বরাবরই লাঞ্চনা ও অবহেলা ছাড়িয়া আর কিছুই পাইতাম না। বড় হইয়া বুঝিয়াছি অতীতে সেইটুকু না পাইয়া থাকিলে আজ এতদ‚র আগাইতে পারিতাম না। সকল কিছুর নিয়ন্তা ঈশ্বর। ঈশ্বরের নাম স্মরণ করিয়াই সামনের দিকে আগাইয়া যাইতেছি দিনের পর দিন।

লোকের মুখের কথা ফিরাইবার সাধ্য আমার মত বালকের হইয়া উঠেনি। তাই লোকের কথা লোকের মুখেই রইয়া গেল আমার কর্ণে আর আসিল না।

আমার ঠাকুরদাদার ঠাকুরদাদা, এককালে তিনি গ্রামের ধনী বণিক ছিলেন। সেইকালে নৌপথে ভারতের বড় বড় বণিকদের সহিত বানিজ্য করিতেন তিনি। ধন, সম্পদ, ঐশ্বর্য কোনখানেই কমতি ছিলনা উনার। ঠাকুরদাদা অসুখে পড়িয়া শ্বশ্মানের চিতায় উঠিয়াছিলেন বলিয়া তিনি সম্পত্তি ভোগ করিবার উপযুক্ত সময় পাইলেন না। মৃত্যুকালে উনার বয়স বেশি হয় নাই। বংশ পরম্পয়ায় এক পুরুষে অল্প বয়সে আমার পিতৃদেব তাহার সম্পত্তির মালিক হইয়াছিলেন। সেইকালে তাহার বয়স ছিল সতেরো। পিতৃদেব বড়ই অচিকীর্ষু প্রকৃতির ছিলেন। অলক্ষণে কার্য করিয়া সকল কিছুই হারাইয়াছে দিন ক্ষণেক পরেই। ষোল-সতেরো বছরের ছোটো এক তরুণীকে বিবাহ করিয়া আমাদের দুই ভাই-বোনের জনক হইয়াছিলেন তিনি।

উনার কথা আর নাহিবা বলিলাম, বড়দের নিয়া কুটুক্তি করিলে ইহা পাপ কার্যের সমতুল্য বলিয়া গণ্য হইয়া থাকে।

একে একে ম্যাট্রিক, ইন্টার পরীক্ষা পাস করিবার যোগ্য হইয়াছিলাম। তখন আমার বয়স ছিল কুঁড়ি। পিতৃদেবকে লইয়া শহরের অন্যতম সরকারী কলেজে বিএ ভর্তি হইয়াছিলাম। ইহার পর তিনি আর কলেজে যাইবার মত উমেদ বোধ করিলেন না কোন ক্ষণেই। রীতিমত কলেজে গিয়া ক্লাস করিবার সাধ জাগিত প্রথমে। ক্লাসের সকলেই আশপাশের শহর-নগর ও গ্রাম-গঞ্জের তরুণ-তরুণীরা এইখানে পড়িতে আসিয়াছে। সকলেই বেশ বড় হইয়াছে, সকল কিছু বুঝবার ও বলিবার প্রাবল্য অর্জন করিয়াছে। তাহারা অধিকাংশই কলেজের হোস্টেলে থাকিতে আরম্ভ করিয়াছে। আর কেহ বাবা-মায়ের সহিত বাড়ি ভাড়া করিয়া একসঙ্গে থাকিবার চেষ্টা করিতে লাগিল। যাহাদের এই শহরে বাড়ি রইয়াছে তাহারা ভালোমতেই থাকিতে পারে। সকলের সহিত পরিচিতি লাভ করিতে দিন পনেরো লাগিয়াছে।

(২)
এক সহপাঠী তরুণী আমার মন কাড়িয়াছিল মাস-তিনেকের মধ্যেই। ভরা যৌবনের বয়স বলিয়া কথা, তরুণীর সকল কিছুই ভালো লাগিতে আরম্ভ করিয়াছিল। ক্লাসের সকলকে দেখিতে না পারিলেও তাহাকে দেখিবার উমেদ জাগিত প্রবল। একদিন ক্লাসে বিলম্ব করিয়া উপস্থিত হইয়াছিলাম, তাড়াহুড়ো করিয়া কোথায় যে বসিয়া পড়িলাম খেয়াল করিবার সময় পাইলাম না। সম্মুখে একবার তাকাইয়া পাশেরজনকে দেখিবার উমেদ জাগিয়াছিল মনে। তবে সে যে এক তরুণী তাহা প্রথমেই আন্দাজ করিয়াছি। এ সেই ভালো লাগার তরুণী। আসনে বসিবার পূর্বে অজান্তেই ঠ্যাং দিয়া তাহার ছাঁটায় খোঁচা লাগিয়াছিল অল্প খানেক। আমি নিতান্তই লজ্জা বোধ করিয়া ক্ষমা চাহিয়াছিলাম তাহার নিকট। ভাগ্য অনুক‚লে ছিল, সে বেশ সহƒদয়বান বটে। তাহা না হইলে কি চাহিতে কি বলিত, অসৎ চরিত্রের লোক ভাবিয়া হট্টগোল বাধাইয়া দিত।

কয়েকদিন পর কলেজে এক সহপাঠীর সঙ্গে আমার তুমুল বাক-বিতন্ড হইয়াছিল, সেইক্ষণে সকলেই দেখিয়াছিল আমাদের শিশুসূলভ আচার-আচরন। আমি কানাইকে বলিয়াছিলাম, কানাই, তুমি কিন্তু এইবার বেশি বেশি করিতেছো? অতিরিক্ত কোন কিছু যে পতনোন্মুখে নিয়ে যাইতে পারে ইহা মনে হয় নিশ্চয়ই তোমার অজানা নহে।

কানাই বলিয়াছিল, কি করিতে পারবি রে তুইকি করিবার সাধ্য আছে তোর?

কানাই বাক্যটা ক্রোধেই বলিয়াছে আর রসিকতায় বলিয়াছে। তবে উত্তেজনার বশে সে নিতান্তই ভূল কিছু করিতেছে। আমার ক্রোধ দাঁতে দাঁত চাপিয়া তাহার প্রশ্নের উপযুক্ত কদুত্তর দিবার চেষ্টা করিলাম- আমি তোমাকে কিছুই করিব না বন্ধু। তবে আমাকে কিছু করিলে কেহই ছাড় পাইবেনা নিশ্চিত। আর আমি এমন কোন কার্য করি নাই যাহার জন্য আমাকে দন্ড ভোগ করিতে হইবে।

কানাই হাতের পাঠ্যবইখানা নিকটস্থ টেবিলে রাখিয়া আমার নিকটে আসিয়া ক্রোধে জোড় হস্তে সজোরে আঘাত করিল। আমি দুই পদক্ষেপ পিছনে হটিলাম। চতুপার্শ্বে দশ-পনেরো জোড়া চোখ একসঙ্গে আমার মুখের দিকে তাকাইয়া আছে, এ মূহুর্ত বেশ লজ্জাময়। সকলেই আমাকে নিপাট ভালোমানুষ বলিয়া জানিত তাই তাহারা আমাকে মেষশাবকের সহিত তুলনা করিতে বিলম্ব করিলনা। ক্রোধিত হইয়া কানাইয়ের উপর ঝাপাইয়া পড়িলাম। সকলেই হা করিয়া তাকাইয়া আছে এখনো। বড় দাদাদের নজরে পড়িয়া বিপ্লব থামাইয়া দিলেন উনারা। তারপর এক ভ্রান্ত সমঝোতা করিয়া গোলমাল স্থগিত করিলেন।

এরপর ধারাবাহিক ভাবে ক্লাস চলিতেছিল। বেশ কিছুদিন পর তরুণীর সঙ্গে মিত্রতা হইয়াছিল আমার। অল্পভাষী ছিলাম, সেই সুবাধে তাহাকে কম বিরক্তই করিতাম। নিষ্প্রয়োজনে নিজের সঙ্গেই পার করিতাম সময়। তবে তাহার সঙ্গে আলাপ করিবার বড়ই উমেদ জাগিত মনে। মনের স্বাদ মনেই পুষিতাম বলিবার সাহস পাইতাম না।

কবির স্যারের তীক্ষœ দৃষ্টি পড়িয়াছে আমার উপর। তিনি ইতিমধ্যে ভাবিয়া বসিয়া আছেন নির্ঘাত আমি দোষী, অপরাধী। গোপন কোন কার্য করিবার জন্য বোধহয় আজ কলেজ প্রাঙ্গনে প্রবেশ করিয়াছি। আমি উনার ধারনাকে কোনমতেই ভ্রান্ত প্রমাণ করিতে পারিলাম না।

স্যারের চোখে চোখ পড়িতেই বলিলেন, মহাশয়, আপনি আজ কলেজে আসিয়াছেন? কিন্তু আমি তো আজ আপনার আগমনকে কোনভাবেই সুলক্ষণ বলিয়া মানিতে পারিতেছিনা। আপনাকে হাড়ে হাড়ে চিনা আছে।

কি অলক্ষণে কথা বলিলেন স্যার! উনি কলেজে আসিয়াছেন মাস ছয়েক হইবে। এরইমধ্যে তিনি আমাকে হাড়ে হাড়ে চিনিয়া বসে রইয়াছেন। নিছক কোন ভূল ভাবনায় মত্ত হইয়াছেন তিনি।

আমি বলিলাম, স্যার, নিশ্চয়ই আপনি আমার সম্বন্ধে ভূল কোন তথ্য জানিয়াছেন। তাহা না হইলে আমার সম্বন্ধে সঠিক বাক্যই বলিতেন।

রহস্যভরা মুচকি হাসিতে হাসিতে স্যার বলিলেন, কি জানি অনুপম রহস্য ভরা আমার চোখ।

তারপর তিনি একবার আমার দিকে তাকাইয়া উনার কার্যে মনোনিবেশ হইলেন।

আমি মনে মনে ভাবিতে লাগিলাম, আমার কি দোষ স্যারের চোখে পড়িল যাহার জন্য স্যার আমার উপর তীক্ষœ দৃষ্টি ফেলিয়াছেন?- ইহা আমার জানিবার বড়ই উমেদ বটে।

আমাদের ক্লাসের সকলেই ভ্রমণপিপাসায় মত্ত হইয়াছিল তখন। ইহা কি আমাদের পূর্ব হইতেই অভ্যাস রইয়াছিল, নাকি শ্রদ্ধেয় শিক্ষক মহোদয় আমাদের সকলকে ভ্রমণপিপাসু করিয়া তুলিয়াছিলেন তাহা আজও রহস্য রইয়া গেল।

বড় নৌকায় করিয়া ভরা যৌবনে ব্রহ্মপুত্রের বুকে ভাসিয়াছিলাম আমরা সকলেই। সকলেই রসিকতায় মাতিয়া উঠিয়াছিল, আমিও বাদ পড়িব কেন? একেক করে সকলেই প্রিয় গানের দুএক লাইন গাইতেছিল। এ যেন জোর জবরদস্তি করিয়াই হইয়াছিল। এমন সময় ডাক পড়িল সমলতার, এইবার তাহার পালা। আমি বিস্মরণশীল ছিলাম, নাম শুনিতেই কিঞ্চিৎ মনযোগী হইয়া উঠিয়াছিলাম।

সমলতা প্রথমে গান গাহিতে রাজি না হইলেও, রাজি না হইয়া উপায় ছিলনা তাহার। তাহার যে রবীন্দ্রসঙ্গীত ভীষণ প্রিয় সেইদিনই জানিয়াছিলাম আমি। একখানা রবীন্দ্রসঙ্গীত গাহিয়া সকলের মনই জুগাইয়াছিল সে। আমি অতি গরজেই তাহার সঙ্গীত শ্রবণ করিয়াছিলাম।

এরপর কয়েকদিন যাবত সেই সুকন্ঠে গাওয়া রবীন্দ্রসঙ্গীত আমার কর্ণ বরাবরই বাজিতে লাগিল। এক অদ্ভুত প্রশ্নে মন অস্থির হইয়া উঠিল, আমি কি তাহাকে ভালোবাসি?- যদি ভালোইবাসি, তবে এইখানে কি উপায় করিয়া তাহাকে বুঝাইব ইহার ভাবনাই আক্রান্ত হইয়া পড়িলাম।

তারপর হুট করিয়া একদিন মনে যৌবনের কড়া নাড়িল, স্পষ্ট করিয়া না বলিলেও ইঙ্গিত করিয়াছি তাহাকে। সে কি হইতে কি বুঝাইয়া দিল বুঝবার চেষ্টা করিলাম না। তবে ইহা স্পষ্ট করিয়াই লক্ষ্য করিলাম যে, তাহার চক্ষে একফোঁটা ভালোবাসা। এরপর কি করিতে কি ভাবিলাম স্পষ্ট করিয়া কিছু বলিলাম না। মনের কথা মনেই রহিল, তাহাতে বলিবার উমেদ জাগিল না।

(৩)
স্বচ্ছ সাদা দর্পণ, কালো ফ্রেমে বাঁধা
তাহার ভেতরে তরুণীর মায়াবী চক্ষু।
বসন্ত পবনে তাহার এলোমেলো কেশ
মুখে একখানা তিল মন করিয়াছে বড়ই উতলা সই।।

ইচ্ছা করিয়া তাহাকে নিয়া জাগিয়া জাগিয়া বহু দিবাস্বপ্ন দেখিয়াছি ইতিপ‚র্বে, একদিন শিশির ভেজা সকালে স্বপ্নে দেখিলাম গোঁধুলি সেই বিকেল। অতি নিকটে তাহার হস্ত আমার হস্তে ধারন করিয়া হাটিয়া যাইতেছি ব্রহ্মপুত্রের পাড়ে।

ক্রমশই প্রদোষ নামিয়া আসিতেছি, সমলতার যাওয়ার সময় হইয়াছে বরং। ছাড়িবার উমেদ না থাকিলেও ছাড়িয়া দিতে হইবে এক্ষুণি। যাইবার কালে তাহাকে আলিঙ্গন করিয়া চুম্বনে মত্ত হইলাম।- এরপর ঘুম ভাঙ্গিয়া গেল।

অপরাহ্ন হইয়াছে, পেটে কামড় মারিয়া জোরপূর্বক জানাইতেছে ভোগ নিকটে আসিয়াছে। এমন সময় রণজিত আসিয়া কহিল, ওহে আমার প্রাণের বন্ধু, তুমি তো সমলতার প্রেমে পড়িয়া উন্মাদ বনে গিয়াছো। এদিকে যে বাসন্তীবালা তোমাকে ভালোবাসিয়া মরিতেছে তাহার কোন খোঁজ রাখিয়াছো??

রণজিত যে ধনে বড় নাহি মনে বড় তাহা আজও বুঝিবার পারিলাম না। তবে কথোপকথনে সে যে বহু পটু তা আগেই বুঝিয়াছি।

আমি স্পষ্ট করিয়াই তাহাকে বলিলাম, শুধু শুধু আমার জন্য প্রাণ কাঁদিয়া ওই কন্যার লাভ কি বলো? যাহাকে আমার ভালো লাগেনা তাহাকে আমি কি করিয়া ভালোবাসিব বন্ধু, তুমিই ইহার উত্তম বিচার করিও।

বাসন্তীর পক্ষ নিয়া কথা বলিতেই বুঝি তড়িগড়ি করিয়া আমার নিকট ছুটিয়া আসিয়াছে। রণজিত একখান হাঁফ ছাড়িয়া মাটির দিকে তাকাইয়া আবার বলিতে লাগিল, দেখো বন্ধু, ভালো করিয়া বুঝিয়া দেখো তুমি সমলতার কাছ থেকে দূরে সরে আসিয়াছো। বাসন্তীকে খুশি করিলেও করিতে পারো, মন্দ ঘটিবে না।

সজোরে হাফ ছাড়িয়া মাথা উঁচু করিয়া তাকাইয়া দেখিলাম, গগণের পাখি গগণেই উড়িতেছে। বাজপাখি!!
আমি রণজিতকে কহিলাম, মধুর স্বাদ যদি দুধে পাওয়া যাইতো তাহা হইলে মধুকে সকলেই বিসর্জন দিতো বহু আগেই।

রণজিত ফিরতি কোন উত্তর না পাইয়া চুপ করিয়া রহিল, বাটীতে ফিরিয়া যাইতে হইবে।

আমার বাল্যকালের হিতাকাঙ্খী রাজীব, ঢাকায় পড়াশোনা করে। তাহার সম্বন্ধে সংক্ষিপ্ত করিয়াই বলিব; তাহার এখন ব্রহ্মপুত্রের শীতকাল চলিতেছে, যৌবনে বড়ই কৃপণতা। তাহার রুপ দেখিয়া আমাদের সকল বন্ধুগণেরই আপসোসের সীমা থাকিলনা। তরুণীরা তাহাকে একবার দেখিয়া আরেকবার না দেখিবার পর্যন্ত হাঁফ ছাড়িতে পারেনা, অন্তরে কয়েকম‚হুর্ত ভাবিয়া লয় নিজেরদের মত করিয়া। এক অঙ্গনার প্রেমে পড়িয়া বড়ই বেকুল হইয়াছিল তাহার হƒদয়খানা। অঙ্গনার প্রত্যাখ্যানে সেই যে পছন্দ ছাড়িল তা আজও স্থগিত রহিল। আর কোন তরুণীর দিকে চক্ষু মেলিয়া দেখিবার উমেদ জাগিল না তাহার।

সে আমাকে অনেক কথাই বলিয়াছে, উপদেশও করিয়াছে বহু।

আমি সমলতাকে পাইবার আশা ছাড়িয়া দিয়াছি বহু আগেই। কিন্তু তাহার মধুর কন্ঠে গাওয়া রবীন্দ্রসঙ্গীত ভূলিতে পারিবনা কোন কালেই।

তাহাকে লইয়া আমার বড়ই সন্দেহ রইয়াছে, আছে নিজের ভেতর সংশয়। না আমি তাহাকে চাই, না সে আমাকে চায়?- তবে আমার কানে শুধু বাজিতেছে তাহার সুকন্ঠে গাওয়া সেই রবীন্দ্রসঙ্গীত। সেই যে আমি রবীন্দ্রভক্ত হইয়াছি, আজও আছি।

আমি বলিতে চাই- ওগো সমলতা, আমার প্রাণ হারাইয়াছে তোমারি গাওয়া রবীসঙ্গীতে।

বিপ্লব বর্মন
বিপ্লব বর্মন