ঈদের ছুটি। পর্ব – ০৩

eid er chuti-kanggal.com

“ঈদের ছুটি”

পর্ব-০৩

আকবরের সাথে আমার জীবনঘনিষ্ট আলাপ আলোচনা হচ্ছে। সে জানিয়েছে, আমাদের বাসা থেকে ভালোয় ভালোয় রিলিজ হতে পারলে চুরি-চামারি ছেড়ে দিবে। বিয়ে করে সংসারি হবে। তার পছন্দ করা একটা মেয়েও নাকি আছে। মেয়ের নাম সাবিনা খাতুন। গার্মেন্টসে চাকরি করে অসাধারণ রূপবতী। সাবিনাকে বিয়ে করার অন্যতম প্রধান শর্ত হচ্ছে চুরি-চামারি ছাড়তে হবে!
আমি বললাম,
– নারী জাতির ছলনায় পড়ে নিজের ক্যারিয়ার ধ্বংস করিস না আকবর!
– সাবিনার জন্য আমি সব ছাড়তে পাড়ি দুলাভাই!
– তাই বলে এতো সুন্দর প্রফেশন ছেড়ে দিবি ?
– কী আর বলবো দুলাভাই, দুই বছরের ক্যারিয়ারে তিনবার ধরা খাইছি। চুরি করে ধরা খাওয়া লাইফের বিরাট রিস্ক। পাবলিকের মনে এখন আর আগের মতো দয়া মায়া নাই। ধরা পরলে গলায় পাড়া দিয়া মাইরা ফালায়! একবার ভাবেও না চুরেরাও মানুষ, তাদের মনেও প্রেম ভালোবাসা আছে।
– এটা অবশ্য ঠিক বলছিস।
– গত বছর আমার এক কলিগ গণপিটনা খায়া মারা গেলো। ভালো কাজ জানতো কিন্তু কেমনে যে ধরা খাইলো বুঝলামনা। নতুন বিয়া করছিল, অকালে একটা মাইয়ারে বিধবা বানাইলো পাবলিক ।
– তুই কাজকাম কেমন শিখছস ?
– খারাপ না দুলাভাই, যেকোন বাসায় ঢুকতে পারি গার্ডের বাপের ক্ষেমতা নাই ধরার! পাইপ বাইয়া সর্বোচ্চ সাত তালা পর্যন্ত উঠতাম পারি। পাঁচ ইঞ্চি ফাঁক দিয়া বডি আনা নেওয়া করতে পারি ইনশাল্লাহ।
– তাহলে তো বিশাল কৌশল রপ্ত করছোস?
– আপনাদের দোয়া দুলাভাই।
– লাইফে সফল অপারেশন কয়টা করছিস?
– সফলতা অনেক। তবে এই নিয়া তিনবার ধরা খাইছি। অবশ্য আমার ভাগ্য ভালা মাইরধর কম খাই!
– আমি বলি কী লেগে থাক, সফলতা একদিন আসবেই!
– সফলতা একবার আইছিলো দুলাভাই , অনেক বড় মাপের একটা দান মারছিলাম।
– পরে ?
– হজম করতে পারি নাই, পুলিশ ধইরা ফালাইছিল!
– ভেরি সেড, পুলিশ ধরলো কেমনে?
– মালের সাথে একটা মোবাইল আছিল। দামি মোবাইল লোভ সামলাইতে পারিনাই। মোবাইলের কারণে কট খাইলাম!
– এজন্যই বুদ্ধি খাটিয়ে চলতে হয়!
– হ দুলাভাই, বুদ্ধির অভাবে ধরাটা খাইলাম। নইলে আজ বড়লোক থাকতাম। ছয়লাখ টাকা, ১০ ভরি সোনা আরেকটা আইফোন। দুঃখটা ভুলতে পারিনা দুলাভাই ।
– থাক মন খারাপ করিস না!
– আসলে কী জানেন দুলাভাই, চুরি প্রফেশনটা আমারে সুট করেনা। খালি ধরা খাই! তাই ঠিক করছি সাবিনারে বিয়া করে সংসারি হয়া যামু।
– সংসার এক আজব জায়গা রে আকবর, আমারে সংসার সুট করেনা!
– আপনি তো দুলাভাই মাশাল্লা সুখেই আছেন। মনের আনন্দে বউ বাচ্চা নিয়া কক্সবাজার ঘুরতাছেন!
– মনের আনন্দে নারে তোর আপার ঠেলায় আসছি।
– যাই কন দুলাভাই তবুও শান্তি। আমারও ইচ্ছা আছে সাবিনারে বিয়া কইরা কক্সবাজার বেড়াতে যামু।
– বিয়া করিস নারে আকবর, বিয়া করার চাইতে গণপিটনা খায়া মইরা যাওয়া ভালো!
– কী যে কন না দুলাভাই, চুরি বিদ্যায় আমার ভবিষ্যৎ খারাপ। সংসার ছাড়া আমার কোনো গতি নাই।
– সংসার কোন ছেলেখেলা না তোরে কেমনে বুঝাই?
– জানি দুলাভাই, এই কারণেই ঘর গৃহস্থালির কাজকাম শিখতাছি। ফোনটা আফার কাছে দেন, দুই একটা সাংসারিক আলাপ সালাপ করি।

আকবরের চিন্তাভাবনা চমৎকার। বিয়াশাদীর আগে আমারও উচিৎ ছিল অভিজ্ঞদের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় সাংসারিক জ্ঞান আহরণ করা। প্রখর সাংসারিক জ্ঞান না থাকায় এখন পস্তাতে হচ্ছে।

আকবর আলীর আরেকটা গুণ হচ্ছে সে অত্যন্ত কর্মপাগল মানুষ ! কর্ম ছাড়া তার কিছু ভাল লাগেনা। বাসায় বসে টিভি দেখতে দেখতে সে বিরক্ত। সময় কাটানোর জন্য তার কাজ দরকার। গত চারপাঁচ দিনে রান্নাবান্না সংক্রান্ত যাবতীয় কাজ তাঁর জানা হয়ে গেছে। সাধারণ মসুর ডাল থেকে মুগডাল, খিচুড়ি থেকে পায়েস রান্না সবই শিখে গেছে। ছোট মাছ, বড় মাছ, বীফ কারি মাটন কারি রান্নাতেও হাত পাকিয়েছে আকবর।
সহজে রান্নাবান্নার টেকনিক শিখানোর জন্য রিহানের আম্মুকে সে উস্তাদ মেনেছে। অদূর ভবিষ্যতে সে নাকি ঢাকা শহরে ভাতের হোটেল দিবে। হোটেলের নাম রাখবে তার সম্মানিত উস্তাদের নামে! কিন্তু রিহানের আম্মু চায় না তাঁর নামে কোন ভাতের হোটেল হোক।

যাহোক আকবরের সংসার জ্ঞান সম্মৃদ্ধির জন্য ফোনটা রিহানের আম্মুর কাছে দিলাম। লাউডস্পিকারে আকবরের কণ্ঠ শুনা যাচ্ছে,

– হ্যালো আফা হাত পা চাবাইতাছে, শুয়া বইসা আর ভাল্লাগতাসে না কিছু কাম কাজ থাকলে কন?

আকবর রিহানের মায়ের কাছে কাজ চাচ্ছে। রিহানের আম্মু কিছু রুটিন ওয়ার্ক আকবরকে ধরিয়ে দিয়েছে।

– শুন আকবর,দরজা জানালার পর্দা গুলো খুলে ধুয়ে ফেল ?
– ওকে আফা এক্ষনি ধুইতাছি!
– তারপর ঘরটা ভালো করে মুছবি। বাথরুম দুইটা ভালো করে পরিষ্কার করবি। পারবি না ?
– পারমু না মানে! একশোবার পারমু!
– আর শুন, বারান্দার টবগুলোতে পানি দিস ঠিকমতো!
– ওকে আফা চিন্তা নিবেন না।

ছুটির দিনগুলো ভালোই যাচ্ছে। রিহানের আম্মুকে অনেক নির্ভার প্রাণোচ্ছল লাগছে। তবে এই কয়দিনে তাঁর চেহারা অনেক ডাউন হয়ে গেছে। সমুদ্র মানুষের মন ভালো করে ঠিকই তবে চেহারা নষ্ট করে দেয়। রিহানের আম্মুকে অনেকটা খাসিয়া জনগোষ্ঠীর মহিলাদের মতো লাগছে। আমার চেহারাতেও আরাকান রোহিঙ্গাভাব চলে এসেছে। সবচেয়ে বেশি বিগড়েছে রিহান। বিচে গিয়ে মেয়েদের দিকে তাকিয়ে থাকে আর তিরিং বিরিং করে। ফলশ্রুতিতে রোদে পুড়ে চেহারা হয়েছে ফকিন্নিপুত্রের মতো। থালা হাতে রাস্তায় দাঁড়ালে নিশ্চিত অনেক টাকা ভিক্ষা পাবে সে !

টু বি কন্টিনিউড…

-উদ্বাস্তু অনিকেত

Suhanur Rahman
Hi there, I'm Suhanur Rahman (Suhan) . I'm a Regular Content writer in kanggal.com. I'm Experts on advanced computer skills, there is the concept of Web Development (HTML, CSS, PHP-BASIC, JS-BASIC), Android App Development (Java Programming), and Microsoft Office. And I have completed two Certified Courses on Web Development and Android App Development from Bangladesh ICT Division. Best Regards -Suhan