আর্টিলারী বা রণাঙ্গনের ভাগ্য বিধাতা!

Artillery - kanggal.com

আর্টিলারী বা রণাঙ্গনের ভাগ্য বিধাতা!

পৃথিবী ব্যপী অসংখ্য যুদ্ধ সংগঠিত হয়েছে, কোন দল জয়ী হয়েছে আবার কেন দল হারের তিক্ত স্বাদ অনুভব করেছে। প্রতিটি যুদ্ধে প্রতিটি দলই নতুন নতুন যুদ্ধ বিদ্যা খাটিয়েছে।তারপরও অনেকেই দল হারের তিক্ত অভিজ্ঞতা নিয়ে যুদ্ধ ক্ষেত্র থেকে বিদায় নিয়েছে।
এখন স্বাভাবিক ভাবেই যে কেউ জিজ্ঞেস করবে কেন এই হার।আর তার একমাত্র উত্তর হল আর্টিলারী বা গোলন্দাজ সক্ষমতা।

একটি দেশের সামরিক বাহিনী তথা সেনাবাহিনী শক্তির প্রতীক হলো তাঁর গোলন্দাজ বা আর্টিলারী ফায়ার পাওয়ার। আর তার জন্য আর্টিলারী বা গোলন্দাজ ইউনিট কে রণাঙ্গনের ভাগ্য বিধাতা বলা হয়। আর্টিলারী বাহিনী একটি বাহিনীর সার্মথ্যের প্রতীক। সম্মুখ যুদ্ধে যখন সেনাবাহিনীর তার ইনফেন্ট্রি তথা পদাতিক এবং আরর্মাড ইউনিট যেমন ট্যাংক, এন্টি পার্সোনাল ক্যারিয়ার(APC) এবং পদাতিক সৈন্য নিয়ে সামনে অগ্রসর হয় তখন পেছন থেকে ভারী গোলা বর্ষন করে তাদের জন্য রাস্তা পরিষ্কার করে দেয়াই গোলন্দাজ বাহিনীর মুল লক্ষ্য।অর্থাৎ যুদ্ধ ক্ষেত্রে শত্রুর এলাকা দূর থেকে ভারী গোলা বর্ষণ করে পদাতিক সেনাদলের কাজ সহজ করে দেয়াই হল গোলন্দাজ বা আর্টিলারীর কাজ।

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ক্ষেত্রেও এই আর্টিলারীর ভূমিকা ছিল অপরিসীম। ১৯৭১সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে সেপ্টেম্বর মাসের প্রথমার্ধ পর্যন্ত মুক্তিবাহিনীর নিজস্ব গোলন্দাজ বাহিনী (আর্টিলারি) ছিল না। এ সময় ভারত মুক্তিবাহিনীকে কয়েকটি ৩.৭ ইঞ্চি ফিল্ড আর্টিলারি গান সরবরাহ করে । তা দিয়ে মুক্তিবাহিনীর ‘কে’ ফোর্সের জন্য ফিল্ড আর্টিলারি ব্যাটারি (গোলন্দাজ দল) গঠন করা হয়। এর নাম দেওয়া হয় মুজিব (১ ফিল্ড) ব্যাটারি। এতে অন্তর্ভুক্ত হন কবির আহম্মদ। তিনি একটি কামান পরিচালনার দায়িত্ব পান। মুজিব ব্যাটারিতে ছিল ছয়টি কামান। আর্টিলারি ফায়ার সাপোর্ট দিয়ে তাঁরা মুক্তিযোদ্ধাদের সহায়তা করেন। ব্যাটারি প্রথম যুদ্ধে অংশ নেয় অক্টোবরের মাঝামাঝি সময়ে । ১৪ অক্টোবর নিয়মিত মুক্তিবাহিনীর কয়েকটি দল পাকিস্তান সেনাবাহিনীর সালদা নদী প্রতিরক্ষায় প্রথাগত আক্রমণ তথাকনভেনশনাল অ্যাটাক চালায় । সে জন্য কামানগুলো পাকিস্তানি প্রতিরক্ষার চারদিকে বিভিন্ন স্থানে বসিয়ে গোলা ছোড়া হয়। এই আক্রমণে কবির আহম্মদও অংশ নেন। তিনি তাঁর নেতৃত্বে পরিচালিত কামান দিয়ে সালদা নদীর বায়েক এলাকায় গোলাবর্ষণ করেন। সঠিক নিশানায় গোলাবর্ষণ করার ক্ষেত্রে তিনি যথেষ্ট কৃতিত্ব ও দক্ষতা প্রদর্শন করেন। এর ফলে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর বায়েক এলাকার প্রতিরক্ষার বিশেষত কয়েকটি বাংকারের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। সেখানে মাটির ওপরে ও নিচে ছিল পাকিস্তানি সেনাদের তিনটি স্তরের বাংকার। বাংকারগুলো ছিল রেলের বগি দিয়ে তৈরি।যা খুবই পুরু এবং দুর্ভেদ্য। ওপরের স্তর যুদ্ধের জন্য। মধ্যম স্তর গোলাবারুদ রাখাসহ অন্যান্য কাজে ব্যবহারের জন্য। নিচের স্তর ছিল বিশ্রামের জন্য। কবির আহম্মদের দলের ছোড়া কামানের গোলায় দু-তিনটি বাংকার সম্পূর্ণ ধ্বংস এবং কয়েকটি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। গোলার আঘাতে কয়েকজন পাকিস্তানি সেনা নিহত ও আহত হয়। নিখুঁত গোলাবর্ষণের পর মুক্তিযোদ্ধারা একযোগে ঝাঁপিয়ে পড়েন পাকিস্তানিদের ওপর। তুমুল যুদ্ধ শুরু হয়। এতেও পাকিস্তানি সেনাদের বেশ ক্ষতি হয়। একপর্যায়ে পাকিস্তানিরা বায়েক থেকে পিছু হটে যায়।

এ ঘটনা থেকে স্পষ্ট বুঝা যায়, আর্টিলারী বা গোলন্দাজ কে কেন রণাঙ্গনের ভাগ্য বিধাতা বলা হয়।যে সেনা বাহিনীর গোলন্দাজ দল যতে সমৃদ্ধ, সে দেশের সেনা বাহিনীর তত বেশি যুদ্ধ জেতাতে ক্ষমতা রয়েছে।