মোহাম্মদ নাসিমঃ একজন বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ

মোহাম্মদ নাসিম সাবেক মন্ত্রী,বর্তমান সংসদ সদস্য, জাতীয় চার নেতার একজন ক্যাপ্টেন মনসুর আলীর সুযোগ্য পুত্র, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি মন্ডলীর সদস্য ছাপিয়ে তিনি ছিলেন উত্তরবঙ্গের তথা সমগ্র তৃণমূলের প্রিয় ভাই, অসহায় মানুষের শেষ আশ্রয়স্থল, সর্বপ্রিয় “ নাসিম ভাই”।

মোহাম্মদ নাসিম যখন  স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন, তখন তিনি কঠিন হাতে দক্ষিণাঞ্চলের সর্বহারা পার্টি সহ সকল সন্ত্রাসী বাহিনীকে কঠোর হাতে দমন করেন,  তার সুফল দেশবাসী এখনো পায়, তার এক প্রচেষ্টায় সন্ত্রাসী বাহিনী নির্মূল করেন, যার জন্য তিনি প্রশংসার দাবীদার।

এই যে আমরা হাতে হাতে মোবাইল ফোন দেখি, তা তিনি বাংলাদেশে উন্মুক্ত করার ব্যবস্থা করেন।  তিনি যখন ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রনালয়ের মন্ত্রী, তখন তিনি ই ব্যক্তি পর্যায়ে মোবাইল ফোন বিক্রির অনুমতি দেন,  এবং সিম কোম্পানিগুলোকে সহজভাবে সব অপারেট করার নির্দেশ দেন। এই মানুষটার কল্যানেই আজ আমরা সহজে মোবাইল ফোন চালাতে পারি৷

মোহাম্মদ নাসিম,  ২এপ্রিল ১৯৪৮ সালে জন্মগ্রহণ করেন৷ তিনি ক্যাপ্টেন মনসুর আলীর সন্তান।  তার মাতার নাম আমেনা মনসুর।  তিনি পাবনার এডওয়ার্ড কলেজ থেকে এইচএসসি পাশ করেন,  তারপর জগন্নাথ কলেজ থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতক ডিগ্রী অর্জন করেন।

তিনি ছাত্রাবস্থায় ছাত্র ইউনিয়নের রাজনীতি শুরু করেন৷  ১৯৬৬সালে তিনি “ভূট্টা আন্দোলন “ সংগঠিত করেন,  এবং নিজ পিতার সাথে এক সাথে জেলে যান। পচাত্তরের জেল হত্যার পর নাসিমকে আবার গ্রেফতার করা হয়, এবং অনেক নির্যাতন করা হয় তার উপর।  দীর্ঘদিন কারাভোগ ও করেন ওইসময়।

১৯৮১ সালের আওয়ামী লীগের সম্মেলনে দলের যুব সম্পাদক নির্বাচিত হওয়ার মাধ্যমে তিনি জাতীয় রাজনীতিতে প্রবেশ করেন ।  পরবর্তী ১৯৮৭ সালের সম্মেলনে দলের প্রচার সম্পাদক নির্বাচিত হন,  ১৯৮৬ সালে প্রথম সিরাজগঞ্জ -১( কাজীপাড়া)  আসন থেকে সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন।  ১৯৯২থেকে ২০০২ পর্যন্ত দলের সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন।  ২০০২-২০১২ পর্যন্ত দলের এক নম্বর কার্যনির্বাহী সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।  ২০১২ সাল থেকে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত দলের সভাপতি মন্ডলির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

মোহাম্মদ নাসিম ১৯৯১ সালে বিরোধীদলের চীফ হুইপ হিসেবে দায়িত্ব পান৷ ১৯৯৬ সালে তিনি প্রথমে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পরে পর্যায়ক্রমে গৃহায়ণ গণপূর্তমন্ত্রী,  পরে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।  ২০০৮সালে মামলার জন্য অংশ গ্রহণ না করতে পারলেও ২০১৪ সালে বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী নিযুক্ত হন।ব্যক্তিজীবনে তিনি তিন সন্তানের জনক ছিলেন।

বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদের মৃত্যুতে দেশবাসী শোকাভিভূত,।  আমরা তার আত্মার মাগফেরাত কামনা করি।  উল্লেখ্য তিনি ১৩জুলাই ঢাকাতে ইন্তেকাল করেন।

লিখেছেনঃ দেলোয়ার হোসাইন

 

Also Read:

Like Us On Facebook

Suhanur Rahman
Hi there, I'm Suhanur Rahman (Suhan) . I'm a Regular Content writer in kanggal.com. I'm Experts on advanced computer skills, there is the concept of Web Development (HTML, CSS, PHP-BASIC, JS-BASIC), Android App Development (Java Programming), and Microsoft Office. And I have completed two Certified Courses on Web Development and Android App Development from Bangladesh ICT Division. Best Regards -Suhan