মধ্যরাত

 

 

মধ্যরাত

খুব নিঃশব্দে নিজের বিছানা ছেড়ে উঠালাম।
গভীর রাত সবাই ঘুমোচ্ছে।খুব সাবধানে পা ফেলছি,ঘুটঘুটে অন্ধকার চারপাশে।
মনে মনে হেসে বললাম,”আজই সুযোগ!”
এগিয়ে চলেছি ধীর পায়ে,নিজকে অন্ধকারের পিশাচ বলে মনে হচ্ছে!
লম্বা বারান্দা পেড়িয়ে ওই ঘরটা অন্ধকারেও যেন স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছি।ওখানেই আছে,ওই দরজার আড়ালেই আছে আমার এতদিনের আকাঙ্ক্ষা!মাংসের গন্ধ পাচ্ছি!!
আমি আরও সতর্ক হয়ে গেলাম,আমার প্রতিটি স্নায়ু সজাগ।
একটুও শব্দ করা যাবে না!
চুপ!!! নিজেকে নিজেই একটু ধমকে দিলাম।
যা ভেবেছিলাম তাই!ঘরের দরজা খোলা!
আমার মুখে তখন পৈশাচিক হাসি!বিড়ালের থেকেও নিঃশব্দে ঘরে ঢুকলাম।।
দরজার খিল এঁটে দিলাম সাবধানে।
তারপর একটু একটু করে এগিয়ে গেলাম,আমার হৃদস্পন্দন দ্রুত থেকে দ্রুততর হয়ে উঠেছে!!কেউ শুনে ফেললে মহাবিপদ!
আমি এসে দাঁড়িয়েছি
খুব কাছে,খুবই কাছে!!আমার চোখ তখন জ্বলজ্বল করছে,শরীর এক পৈশাচিক আনন্দে কাঁপছে,জ্বিভে জল এসে গেছে!আমার নাকে তখন মাংসের গন্ধ আরও তীব্র!!
মনে হচ্ছে যেন এখনি ঝাপিঁয়ে পড়ি আর ছিঁড়েখুঁড়ে খাই।কিন্তু না খুব সাবধান!!!
নিজের গায়ের গেঞ্জিটা খুলে হাতে ভালো করে মুড়িয়ে নিলাম,যেন মুখ চেপে ধরার পর চিৎকার করতে না পাড়ে কোনোভাবে।
পা থেকে মাথা পর্যন্ত একবার দেখে নিলাম,তখন ঠোঁটের কোণে আমার হাসিটা আরও বিস্তৃত হলো!
মুখটা চেপে ধরার সাথে সাথে ভয়ে কেঁপে উঠলো ওর শরীর!! উঠে বসার চেষ্টা করছে!হাতপা ছুড়ছে!!
আমিও পাক্কা খিলাড়ী, ও কিছু বুঝে ওঠার আগেই আমার হাতের কাপড়টা ওর মুখে গুঁজে দিয়েছি।
ওর হাতদুটো আমার হাতের মুঠোয় বদ্ধ!!
শতচেষ্টা করেও আমাকে পাড়বেনা তার উপর থেকে সরিয়ে দিতে।
ভয়ে যন্ত্রণায় গলা ফাটিয়ে চিৎকার করছে কিন্তু আওয়াজ তার মাঝেই বিলীন হয়ে যাচ্ছে!!
আরও জোরে চেঁচাও,আরও জোরে!
আজ আমার মানুষের শরীর চাই!!আজ আমার তোকে চাই!!

 

জাফরিন হক তরু

গল্পকার ও নাট্যশিল্পী
শিক্ষার্থী
থিয়েটার এ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগ
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়