ঈদের ছুটি। পর্ব – ০৪

eid er chuti -kanggal.com

ঈদের ছুটি

– শেষ পর্ব


অবশেষে ফিরছি….!
রিহানের আম্মু শুঁটকি আর বার্মিজ আচারের এক বিরাট চালান নিয়ে রওয়ানা হয়েছে। আমি তেমন কিছুই কিনি নাই। শুধু তিফার আম্মুর নাম খোদাই করা একটা বড় ঝিনুক নিয়েছি। তবে এটা কনফিডেন্সিয়াল, রিহানের আম্মু জানেনা!
আকবরের জন্য একটা ফতুয়া আর তার গার্লফ্রেন্ড সাবিনার জন্য এক সেট বার্মিজ ড্রেস কিনেছি। এগুলো অবশ্য রিহানের আম্মুই পছন্দ করে দিছে। রিহান একটি ঝিনুকের ঝাড়বাতি কিনেছে। খুব সম্ভবত এটা তিফাকে দেয়া হবে।
সবার জন্যই কিছু না কিছু কেনা হয়েছে। রিহানের আম্মু সেটিসফাইড।

আমাদের গাড়ি এয়ারপোর্টের উদ্দেশ্যে ছেড়েছে। ইউএস বাংলা এয়ারলাইনসের টিকেট আগেই কনফার্ম করা। দুপুরের আগেই শাহজালাল ডমেস্টিক লাউঞ্জে পৌঁছাতে পারবো বলে ধারনা।

আকবরকে আমাদের ফেরার কথা জানানো হয়েছে। সে রান্নাবান্না নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছে। খাবার যা ছিল গত সাত দিনে সে খেয়ে শেষ করে ফেলছে। তবুও তার চেষ্টার কোন কমতি নাই।

আমার ফোনটা ভাইব্রেশন মোডে ছিল। হঠাৎ কেঁপে উঠল। নাম্বারটা আনসেভড তবে পরিচিত, তিফার আম্মুর নাম্বার। ভয় মিশ্রিত চাপা কণ্ঠে তিনি বললেন,
– হ্যালো ভাইয়া, আপনাদের বাসায় চোর ঢুকেছে!
– বলেন কী!
– জ্বি ভাইয়া!
– ক্যামনে বুঝলেন?
– ঘরের ভিতর থেকে ধুপধাপ শব্দ আসছে!
– ঘরে তো তালা দেয়া আছে ভাবি।
– মনে হয় গ্রিল কেটে ঢুকছে।
– আপনি শিউর ?
– হান্ড্রেড পার্সেন্ট শিউর।
– কী সাংঘাতিক!
– আজব চোর ভাইয়া, গান গাইতে গাইতে চুরি করছে।
– বলেন কী ?
– হুম, বাংলা ফোকগান গাইছে, “ওরে নীল দরিয়া আমায় দে রে দে ছাড়িয়া !”
– ভাবি আমার মনে হয় অন্য বাসায় কেউ গান গাইছে। চোর তো গান গাওয়ার কথা না!
– আপনার বাসাতেই গাইছে, আমি শিউর। তবে আপনি চিন্তা করবেন না আমি বাসার মালিককে জানিয়েছি। তিনি রামপুরা থানায় যোগাযোগ করেছেন এখনি পুলিশ চলে আসবে!

হাঁদারাম আকবর এমন আই-কিউ নিয়ে চুরি করতে আসছে। আবার বলে চুরি প্রফেশান তারে সুট করে না। এখন তোকে বাঁচাবো কেমনে?

বলতে না বলতেই আকবরের ফোন। আকবরের কণ্ঠে উত্তেজনা!
– হ্যালো, দুলাভাই বাসায় তো ডাকাত পড়ছে!
– বলিস কী
– হুম দুলাভাই, দরজায় লাত্তি মারতেছে মনে হয় ভাইঙ্গা ফালাইবো !
– তুই একটু শক্ত হ আকবর!
– আমি শক্ত আছি দুলাভাই, ঘরে ঢুকলেই বটি দিয়া কুপায়া ফালামু একদম।
– শুন কুপানোর দরকার নাই, মনে হয় পুলিশ চলে আসছে।
– পুলিশ! বলেন কী!
– হুম, তুই বরং সারেন্ডার করে ফেল।
– কী যন্ত্রনা! পুলিশ জানলো কেমনে?
– তালা দেয়া বাসায় ডিজে পার্টি করলে পুলিশ তো জানবেই।
– কী কন দুলাভাই!
– বাসার মালিক তোর গান শুনে পুলিশে খবর দিছে।
– হায় হায়, আবার কট খাইলাম নাকি !
– চিন্তা করিস না, আমি চলে আসতেছি। থানায় দেখা হবে!
– চিন্তা করিনা দুলাভাই, রামপুরা থানার সবাই আমারে চিনে।
– ভেরি গুড, চেনাজানা থাকা ভালো মাইরধর কম হবে !
– ইনশাআল্লাহ দুলাভাই।
– আর শোন, তোর আর সাবিনার জন্য কিছু জামাকাপড় কিনছিলাম কি করবো ?
– সাবিনার নাম্বারটা আপনারে দিতাছি। ফোন দিয়া ওর কাছে দিয়া দিয়েন।
– আচ্ছা ঠিক আছে।
– আমি যে ধরা খাইছি এইটা বইলেন না।
– যদি জানতে চায় কী বলবো ?
– বলবেন, জরুরী রাষ্ট্রীয় কাজে আটকা পরছি ফিরতে কিছুদিন বিলম্ব হবে!

-উদ্বাস্তু অনিকেত

Suhanur Rahman
Hi there, I'm Suhanur Rahman (Suhan) . I'm a Regular Content writer in kanggal.com. I'm Experts on advanced computer skills, there is the concept of Web Development (HTML, CSS, PHP-BASIC, JS-BASIC), Android App Development (Java Programming), and Microsoft Office. And I have completed two Certified Courses on Web Development and Android App Development from Bangladesh ICT Division. Best Regards -Suhan