অনুপ সরকারের গল্প কাব্য

শুধু মেয়েটার পছন্দ বলে

শুধু মেয়েটার পছন্দ বলে
এবং
যেখানে প্রেমে পড়তে দুবছর গেল
নিবেদনে ছ’ মাস_
সেখানে প্রত্যাখিত হওয়া বড় অদ্ভুত যাতনার।
মুখে খোচা খোচা দাড়ি রাখেনি ছেলেটা
অথচ চুলে ‘নজরুল’ সেজেছে।
নির্গূম কেটেছে কত রাত্রি
রাখেনি সে হিসাব,
এর সাক্ষী হয়ত নিকোটিন
কিংবা ভার্সিটি পড়ুয়া রুমমেট অর্ক।

মোবাইলে স্ক্রিনের ওয়ালপেপারে মেয়েটির ছবি..
হাজার বার তাকিয়ে থেকে,
মনে মনে কত কল্পনা এঁকেছে
প্রশংসার ঢালা ফুড়িয়ে এলে..
ক্লান্ত হয়ে চোখ বুজেছে।
তবুও কল্পনার শেষ নেই
যেন সে অবলোকন করছে,
খুব কাছে,খুব পাশে..
কিংবা বাহুতে জরিয়ে ধরে
ভালবাসি ভালবাসি বলে বিলাপ করে গেছে!
এ কেবল নিজেরি সাথে।

কিংবা একফোঁটা দুফোঁটা অশ্রুও গড়িয়েছে
কোমল গাল বেয়ে,
বিছানায় ছটফট করে বৃথা ঘুমোনোর চেষ্টায়
এপাশ-ওপাশ-
তবুও নির্গূম।
বিরক্তিতে কানে হেডফোন গুজে
রবীন্দ্রের বিরহের গান শুনেছে।
‘সখি ভাবনা কাহারে বলে
সখি যাতনা কাহারে বলে’
নতুবা আধুনিক রিমিক্স গানে
বিটের তালে মাথা দুলিয়ে
স্টেজে নাচার স্বাদ নিয়েছে।
বড় আহ্লাদে বলেছে..
দেখ প্রিয়া আমি নাচতেও পারি
কল্পনা এত অগাধ কল্পনা_

‘বাউলের’ দলে ভিড়ে,
হারমোনিয়ামে বেসুরা কণ্ঠে গান শিখেছে
শুধু মেয়েটার জন্যে।
ফেসবুকে প্রোফাইল গেটেছে হাজারবার..
চোখ বুলিয়েছে প্রিয়ার ছবিতে।

শুধু কি এই!
কত কাব্য,উপন্যাসের সাথে পরিচিত হয়েছে
কত নতুন বই কিনে গন্ধ শুখেছে।
‘জীবনানন্দ,নির্মলেন্দু,সুনীলের…’
প্রেমের কাব্য রঙ্গীন মোড়কে পুড়ে
আলমিরায় সাজিয়ে রেখেছে
শুধু মেয়েটার পছন্দ বলে।

ছেলেটার প্রিয় রং হলুদ,
তবুও সফেদ পান্জাবী পড়ে
বীণাপানির মন্ডপে ঘুরে বেড়িয়েছে,
মেয়েটার পরিধেয় শাড়ির সাথে কোড মিলাবে বলে।

পিঙ্ক,সবুজ,কলমা রঙয়ের..
কাঁচের চুড়ি কিনেছে কয়েক সেট
মেয়েটাকে দিবে বলে।
হাতে পরিধানের পর,
চুড়ির টুংটাং_শব্দ শুনবে বলে
পড়ন্ত এক বিকেল কাটিয়েছে কল্পনায়।

হাতে গোলাপ নিয়ে
চাতকের মত চেয়ে কাটিয়েছে,
দু দুটো পহেলা বৈশাখ
অথচ মেয়েটি আসেনি!

শরৎের পূজোমন্ডপে
রোমাঞ্চিত হয়ে ঘুরে বেরিয়েছে,
বিজয়া দশমীর রং লাগাবে গালে
আর ভেবেছে জোড়গলায় বলবে ভালবাসি ভালবাসি..
অথচ মেয়েটার দেখা মেলেনি!

শুধু মেয়েটাকে দেখবে বলে-
হাজারটা গাড়ি ফেল করেছে
কিন ব্রিজের মোড়ে।
তবুও ক্লান্তি নেই,অনীহা নেই!

অত:পর
গোলাপী আইস্যাডো
সফেদ ফ্রেমের চশমার ভিতর দিয়ে,
যখন তাকালে মৃদ্যুহাসি নিয়ে!
কম্পমান হৃদয়ে..
ছেলেটা অবুঝের মত বলে দিল ‘ভালবাসি’

আর তুমি করেছে কুঠারাগাত,
ছেলেটির হৃদয়ে
‘না’ শব্দটি প্রয়োগ করে।।

 

ব্যাভীচারী

তারিখ টা আমার ঠিক মনে নেই
সেদিন কি বার ছিলো তাও মনে করতে পারছি না।
কি একটা কাজে সেইবার;
রাজবাড়ি গিয়েছিলাম। ফেরার পথে বাস কাউন্টারে দেখা।
প্রথমে চমকে উটেছিলাম, নিজের চোখকে বিশ্বাস করাতে পারছিলাম না।
একি স্বপ্ন; নাকি বিভ্রম-
আমার সামনে দাড়িয়ে অষ্টাদশী মেঘবালিকা!

চোখে চশমা, কপালে লাল টিপ
হাতে জলের বোতল
গায়ে ওয়েস্টার্ন ভাঁজের গোলাপী ড্রেস
পুরোটা ছাউনী যাত্রীতে ভরা,
সবাই চেয়ে আছে মেয়েটির দিকে,
মেয়েটি তখন খোলা চুলে,
মেয়েটি তখন ঈদের চাঁদ-
সামনে কাউন্টার। হাত বাড়িয়ে বললাম দুটো টিকিট;
মানিব্যাগের চকচকে হলো নোট ম্যানেজারের বকশিশ।
বাস নম্বর ১৮-১৮৮৩,সিট নম্বর ১৯-২০।
জ্বানালার পাশে মেঘবালিকা
তার খোলা চুল
কাচের গ্লাসে বৃষ্টির জল,
শো শো বাতাস
ঘন কালো চুলে রজনীগন্ধার সুভাস।
আমি তখন স্বর্গে, বেহুলার নৃত্যমঞ্চে
আমার কানে তখন ঘুঙ্গুরের আওয়াজ-
আমার বুক তখন কবিতায় ঠাসা
অসংখ্য ছন্দ,অসংখ্য প্রেম।
দীর্ঘ সাড়ে চার ঘণ্টা
পাশে বসে মেঘবালিকা,
দীর্ঘ কথোপকথন
আমি তখন প্রেমিক,
আমি তখন পুরুষ,যৌবনদীপ্ত পুরুষ-
যৌবনের প্রথম প্রেম মেঘবালিকা!
আমার মুখে দুটো শব্দ ইয়েস! আর থ্যাংস গড

গন্তব্যে থামে বাস
মেয়েটি তখন হিংস্র-
মেয়েটি তখন বিধ্বংসী-
মেয়েটি তখন ব্যাভীচারী-
মেয়েটির নিকটে তার প্রেমিক পুরুষ!
মেয়েটি ধরে আছে তার প্রেমিকের হাত।
আমার হৃদয় তখন বিধ্বস্ত হিরোসিমা কিংবা নাগাসাকি-
আমার বুক তখন জলন্ত ট্রয়
আমার বুকের কম্পন তখন রিকটার স্কেলেও মাপা যেতনা।

 

 

অনিন্দ্য মৃত্যু

একটা মৃত্যু চাই …
অনিন্দ্য সুন্দর ।
যে মৃত্যুতে বদলে যাবে জীবনের
রঙ
যেখানে শরীর আলো,
স্বাদ পাবো বিষাদের কালো।
আহারে বিষাদের দহন!
তবুও,
যে বুকটা আজও একা
সে বুক জানেনা
কতো টা ভয়ঙ্কর
জাহান্নামের আগুন!

অথচ দেখ- আমার বুকে
বাস করা বিকট দৈত্য
তাড়া করছে নিত্য
আমার অনিচ্ছায়।
অভিমানে
নিজেই করছে অন্বেষণ…

মানুষরূপী ঐ জানোয়ার চায় যেন আমি খুন হই…
অথচ!
আমি একটা সুন্দর মৃত্যু চাই। অনিন্দ্য সুন্দর মৃত্যু।